Trending News

সাগরে তলিয়া যাওয়া এক মহাদেশ

slogaandesk

বিজ্ঞানীদের সন্ধান পাওয়া নতুন এই বিস্তৃত এলাকা লুকিয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে! নিউজিল্যান্ড এই মহাদেশের পানির ওপরে থাকা একমাত্র অংশ। বাকি সবটুকু পানির নিচে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এই ‘মহাদেশ’টির নাম দিয়েছেন জিল্যান্ডিয়া। আকারে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সমান।


বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, জিল্যান্ডিয়া দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই এই মহাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইন্ডিয়া দুই দেশ মিলিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিউজিল্যান্ড আসলে এই মহাদেশেরই জেগে থাকা অংশ। বলা যেতে পারে, এই মহাদেশের পর্বতচূড়া।


 জিল্যান্ডিয়া শব্দটি প্রথম ১৯৯৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ্যা অধ্যাপক ব্রুস লুয়েন্ডিক উদ্ভাবন করেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় নিযুক্ত ১১ জনই আন্তর্জাতিকভাবে এ শ্রেণির ভূত্বাত্তিক এবং তারা জিল্যান্ডিয়া এর পক্ষে সত্যিই পুঙ্খানুপুঙ্খ সঠিক প্রমাণ সংগ্রহ করবেন। এটা একটি আকস্মিক আবিষ্কার না বরং এটা ছিল ক্রমান্বয়িত উপলব্ধি।’


এছাড়া ২০০৭-এ প্রকাশিত হওয়া ‘ইন সার্চ অব এন্সিয়েন্ট নিউজিল্যান্ড’ শীর্ষক বইয়ে নতুন এই মহাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন বইটির লেখক তথা গবেষণায় অংশগ্রহণকারী হামিশ ক্যাম্পবেল। তিনি জানান, ‘আগে পুরো জিল্যান্ডিয়া মহাদেশটাই জলের তলায় ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে প্লেট মুভমেন্ট-এর ফলে জলের ওপরে উঠে আসে নিউজিল্যান্ড।’


বর্তমানে মহাদেশটির প্রায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে নিমজ্জিত। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, নিউজিল্যান্ড মূলত এই মহাদেশেরই জেগে থাকা অংশ। কিংবা একে বলা যেতে পারে এই মহাদেশের পর্বতচূড়াও। এছাড়া এই মহাদেশের জেগে থাকা অংশের মধ্যে আরো রয়েছে নিউ ক্যালেডোনিয়া, নরফক আইল্যান্ড, লর্ড হোয়ে আইল্যান্ড এবং এলিজাবেথ ও মিডলটন প্রবালপ্রাচীর।


জিল্যান্ডিয়া নিয়ে ভূবিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। তবে এটিকে নিয়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয় ২০১৭ সালে, যখন ‘জিওলজিক্যাল সোসাইটি অভ আমেরিকা’য় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়, জিল্যান্ডিয়ার আয়তন পঞ্চাশ লক্ষ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি, যা পার্শ্ববর্তী অস্ট্রেলিয়ার প্রায় দুই তৃতীয়াংশের সমান, এবং ভারতীয় উপমহাদেশেরও প্রায় সমান।

কোন মন্তব্য নেই