Trending News

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা : শরীরে প্রভাব

রমোন কি?

হরমোন আমাদের দেহে উৎপন্ন একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নির্দিষ্ট কোষ বা অঙ্গের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করে। হরমোন কথাটির অর্থ হলো জাগ্রত করা বা উত্তেজিত করা। এগুলো আমাদের শরীরে মেসেঞ্জার অনুর মতো কাজ করে।   


অনেক হরমোন বিশেষ গ্রন্থি দ্বার নিঃসৃত হয়, যেমন থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত হয় থাইরয়েড হরমোন। হজম প্রক্রিয়া, বিপাক, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ সহ জীবনের প্রতিটি ক্রিয়াকলাপের জন্য হরমোন অপরিহার্য। নিউরোট্রান্সমিটারের মতো অনেক হরমোন একাধিক শারীরিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে পুরো শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যেমন- চুল পড়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, ওজন কমা, বন্ধ্যাত্ব, বিষণ্নতা, উদ্বেগসহ আরও নানা সমস্যার কারণ হতে পারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। এটি এক জায়গা থেকে নিঃসৃত হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে নির্দিষ্ট কোষ বা অঙ্গগুলি কিভাবে কাজ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করে।। যেমন—থাইরয়েড হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ঠিকই, কিন্তু এর কাজ হচ্ছে শরীরে বিস্তৃত হওয়া। আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোন আছে; যেমন—থাইরয়েড হরমোন, প্রোলাক্টিন হরমোন, পুরুষ যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন, মেয়েলি হরমোন ইস্ট্রোজেন, কর্টিসল হরমোন।


ইনসুলিনও এক ধরনের হরমোন, যার ঘাটতিতে হয় ডায়াবেটিস নামের রোগ। থাইরয়েড হরমোন ঘাটতি বা হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ-

♦ দুর্বলতা

♦ ঘুম ঘুম ভাব

♦ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা

♦ অনিয়মিত মাসিক, গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া

♦ অতিরিক্ত চুল পড়া

♦ ওজন বেড়ে যাওয়া

♦ ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া


করণীয়

নিয়মিত ডাক্তার দেখিয়ে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।


থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য হলে একে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম। এর লক্ষণগুলো হলো—

♦ ওজন কমে যাওয়া

♦ বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা

♦ ঘুম কম হওয়া

♦ চোখ কোটরের বাইরে বের হয়ে আসা

♦ বাচ্চা কনসিভ করতে সমস্যা হওয়া, মাসিক অনিয়মিত হওয়া


আমাদের মস্তিষ্কে মটরদানার মতো একটি গ্রন্থি আছে, যাকে বলে পিটুইটারি।

এই পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন হচ্ছে প্রোল্যাকটিন। এই হরমোন বেড়ে গেলে যা যা লক্ষণ প্রকাশ পায় তা হচ্ছে—

♦ মেয়েদের স্তন দিয়ে দুধের মতো পদার্থ আসা (এমনকি অবিবাহিত হলেও!)

♦ মাসিক অনিয়মিত হওয়া

♦ বাচ্চা নিতে সমস্যা হওয়া

♦ স্তনে ব্যথা অনুভব হতে পারে

টেস্টোস্টেরন হরমোন ঘাটতির লক্ষণ

♦ পুরুষের যৌন উত্তেজনা কমে যাওয়া

♦ দাড়ি-গোঁফ কম হওয়া

♦ মেয়েলি আচরণ

♦ দুর্বল লাগা

♦ ছেলেদের ব্রেস্ট বড় হয়ে যাওয়া

টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কমতে পারে। এ ছাড়া অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস থাকলেও বা ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কমতে পারে।


নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় হলে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়।

ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ

♦ মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া

♦ মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া

♦ অতিরিক্ত গরম লাগা

♦ যোনিপথ শুকিয়ে যাওয়া

♦ যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

আমাদের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন কর্টিসল। এই হরমোন ঘাটতির লক্ষণগুলো হচ্ছে—

♦ প্রেসার কমে যাওয়া

♦ বমি বমি ভাব

♦ মাথা ঘোরা

এ ছাড়া ইনসুলিন নামের হরমোনের ঘাটতিতে হয় ডায়াবেটিস। হরমোনসংক্রান্ত সমস্যায় হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের চিকিৎসাধীন থাকলে সমস্যার সমাধান হবে আশা করা যায়।


কোন মন্তব্য নেই