স্তন ক্যান্সার কি ? চিকিৎসা পদ্ধতি
শরীরের টিস্যু ছোট ছোট কোষ দিয়ে তৈরি। ব্রেস্ট ক্যান্সার এর সময় ব্রেস্টের কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে ওঠে এবং এক একটি মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। এ মাংসপিন্ড গুলোকে টিউমার বলা হয়। অনেক সময় টিউমারগুলো ক্যান্সারে রূপ নেয়, তখন এদেরকে প্রাথমিক ক্যান্সার হিসাবে সনাক্ত করা হয়। কখনো কখনো ক্যান্সার কোষগুলো রক্ত বা লসিকাতন্ত্রের মাধ্যমে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এটাকে সেকেন্ডারি ক্যান্সার বলা হয়। ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রকৃতি ভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ই ব্রেস্ট ক্যান্সার এ আক্রান্ত হতে পারে। তবে নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে।
কোন অংশটুকু পরীক্ষা করব?

ছবিতে দৃশ্যমান পুরো জায়গা জুড়ে BSE করা উচিত। (Area starts from the collarbone to the sternum and then to the last rib of the chest cage)
BSE করার পদ্ধতি

মনে রাখবেন, BSE করার সময় ছবিতে নির্দেশিত এই ৩টি আঙ্গুলের চিহ্নিত অংশের মাধ্যমে আপনার স্তনের অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করা জরুরী।
BSE ধাপসমূহ
১ম ধাপঃ খেয়াল করুন

স্তনের স্বাভাবিক অবস্থার কোন পরিবর্তন আছে কিনা লক্ষ করুন এবং উল্লেখিত ধাপ অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থানে (position) আকার-আকৃতির পরিবর্তন খেয়াল করুন।
১। হাত কোমরে রাখুন
২। হাত দুটি উপরে উঠিয়ে মাথার উপরে নিন
৩। কোমরে হাত দুটি একটু জোরে চেপে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে বুকের মাংসপেশী সমূহকে আটসাট করুন
৪। নিপ্ল আলতোভাবে চেপে দেখুন কোন তরল জাতীয় দ্রব্য নির্গত হয় কিনা
২য় ধাপঃ স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করুন

১। শুয়ে পড়ুন, কাঁধের নীচে একটি বালিশ রাখুন এবং হাতের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ আঙ্গুলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আলতোভাবে তারপর মাঝারি ধরনের এবং পরবর্তীতে একটু দৃঢ় চাপের মাধ্যমে স্তনের প্রতিটি অংশ অনুভব করুন।
২। স্তনের বাইরের প্রান্ত থেকে বৃত্তাকার গতিতে ঘড়ির কাটার বরাবর অথবা একটি রেখার উপর-নীচ বিবেচনা করে অথবা স্তনের বাইরের প্রান্ত থেকে অনুভব করে ভিতরের স্তনবৃন্তের (Nipple) দিকে এবং Nipple থেকে পুনরায় বাইরের প্রান্ত পর্যন্ত অনুভব করুন
নিন্মোক্ত ৩টি পদ্ধতিতে BSE সম্পন্ন করুন

মনে রাখবেন
স্তনের যে কোন পরিবর্তনই ক্যান্সার নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাকা/পিন্ড সাধারন হয়ে থাকে।
সাধারণ চাকা বা বিনাইন (Benign)
১| চাকাটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিদ্যমান থাকে এবং ছড়িয়ে পড়ে না
২। শতকরা ৯০ ভাগই ব্যাথাহীন
৩। চাকাটির কিনারা সমান কিংবা নিয়মিত
৪। চামড়ার সাথে চাকাটির সম্পৃক্ততা অনুপস্থিত
৫। স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত নয় তবে হলুদ বা সবুজ জাতীয় তরল নির্গত হয়ে থাকে
ক্ষতিকর চাকা বা ম্যালিগন্যান্ট (Malignant)
১। চাকাটির পার্শ্ববর্তী টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অধিক
২। সাধারণত ব্যাথাযুক্ত
৩। চাকাটির কিনারা বা ধারসমূহ অনিয়মিত
৪। চামড়ার সাথে চাকাটির সম্পৃক্ততা বিদ্যমান
৫। স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত/রক্তজাতীয় তরল নির্গত হয়ে থাকে
উল্লেখিত পরিবর্তনের কোনটি দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
কিছু উপদেশ
ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন কে আপনার নিয়মিত অভ্যাসে পরিনত করুন, কারণ আপনার, আমার, আমাদের সচেতনতাই পারে সঠিক সময়ে স্তনক্যান্সার নির্ণয় করে মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে আনতে।

কোন মন্তব্য নেই