Trending News

সিপিআর করলে কেকে বেঁচে যেতে পারতেন

অগনিত ভক্ত অনুরাগীদের কাঁদিয়ে চলে গেছেন বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পীদের অন্যতম কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে। সংগীত দুনিয়ায় কেকে নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। বাংলা, হিন্দি, তামিল, কন্নড়, মারাঠিসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩১ মে) রাতে কলকাতায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত ভারতীয় সংগীত মহল। এদিকে কেকের মৃত্যুর শোক ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশেও। 


শোনা যাচ্ছে, 'নজরুল মঞ্চে এসি কাজ করছিল না। প্রচণ্ড ঘামছিলেন কেকে, অনুষ্ঠান চলাকালীন সে কথা জানানও তিনি। ' বদ্ধ অডিটরিয়াম ও দর্শকাসনের চেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রোতা হাজির হওয়ায় পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যায়। গোটা ঘটনায় নজরুল মঞ্চ কর্তৃপক্ষের ওপরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভক্তরা। তবে অসুস্থ বোধ করলেও অনুষ্ঠান শেষ করেন তিনি। সাময়িক বিশ্রাম নিয়ে ফের মঞ্চে ফেরেন। হাসিমুখে শেষ করেন অনুষ্ঠান।

অনেকে দাবি করছেন অস্বাভাবিক কারণে মৃত্যু ঘটেছে গায়কের। যা নিয়ে প্রতিনিয়তই সামনে আসছে নানান তথ্য। এবার জানা গেল নতুন আরেকটি তথ্য। অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই অসুস্থ ছিলেন কেকে। অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেও হাতে ও কাঁধে ব্যথাও অনুভব করেছিলেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছে, কেকে’র ম্যানেজার রীতেশ ভাট।


প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে, অস্বাভাবিক কোনও কারণে মৃত্যু হয়নি কেকে’র। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে তার। এমনকি এসএসকেএম হাসপাতালে প্রয়াত গায়কের দেহের ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিক রিপোর্টেও এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে কেকের চিকিৎসা কার্য সম্পন্ন করার পর পিটিআইকে এক চিকিৎসক জানান যে, গায়কের বাম দিকের প্রধান করোনারি ধমনীতে ৮০ শতাংশ ব্লকেজ এবং অন্যান্য ধমনী ও উপ-ধমনীতে ছোট ব্লকেজ ছিল। তবে অবরোধের কোনোটিই ১০০ শতাংশ ছিল না। যেহেতু মঙ্গলবার পারফরম্যান্সের সময় গায়ক মঞ্চের চারপাশে হাটাহাটি করার পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় গরমে গানের সঙ্গে নাচছিলেন, ফলে অত্যাধিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিলো। যার ফলে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।’

তবে চিকিৎসক জানান যে, গায়ককে সঠিক সময়ে সিপিআর দেওয়া হলে হয়ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু সঠিক সময়ে সেটি হয়নি।

সেদিন সন্ধ্যায় কলকাতায় নজরুল মঞ্চে গুরুদাস কলেজ আয়োজিত কনসার্টে সংগীত পরিবেশনের পর দ্রুত হোটেলে ফিরে যান কেকে। রাত ১০টার দিকে মধ্য কলকাতার পাঁচ তারকা হোটেল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কেকে-কে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

হঠাৎ কী করে তার মৃত্যু হল জানতে ময়নাতদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশকর্তারা। সারা রাত বেসরকারি হাসপাতালেই রাখা হয়েছিলো গায়কের মরদেহ। বুধবার সকালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হয় ময়নাতদন্ত। ময়নাতদন্ত শেষে রবীন্দ্র সদনে গান স্যালুট দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এর পর বিমানবন্দরে পৌঁছায় কফিনবন্দি কেকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবার, নিকাটাত্মীয় ও বলিউডের শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতিতে মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকার মুক্তিধাম শ্মশানে কেকের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয় তার।


কোন মন্তব্য নেই