Trending News

ইন্টারনেট মাধ্যম থেকে কেমন আয় করছেন সঙ্গীতশিল্পীরা?

গান একদিকে মনের খোরাক, অন্যদিকে অনেক শিল্পী কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছে আয়ের উৎস। বর্তমানে অন্যসবের পাশাপাশি গানের প্রচারমাধ্যম যেমন বদলে গেছে তেমনই বদলে গেছে আয়ের উৎসও। গান মানেই এখন মিউজিক ভিডিও। আর ভিডিও প্রকাশ মাধ্যম ইন্টারনেট।
ইন্টারনেট মাধ্যম বলতে প্রধানত ইউটিউবকেই ধরা হয়। তবে ইউটিউব থেকে শিল্পীরা কেমন আয় করছেন তা নিয়ে এ প্রতিবেদন।
গান মানে এখন মিউজিক ভিডিও। আর তা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব ও অনলাইনভিত্তিক অ্যাপস। এ মাধ্যমগুলো থেকে কেমন আয় করছেন সংশ্লিষ্টরা?
অনেক শিল্পী গান প্রকাশে এখন নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। যেমন মনির খান। শিল্পীদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বেশি। নিজের চ্যানেল থেকেই গান প্রকাশ করেন তিনি।
ইউটিউব থেকে কেমন আয় হচ্ছে এমন প্রশ্নে এ সঙ্গীতশিল্পী বলেন, ‘ইউটিউবে মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করার ফলে যে খরচ হয় তা উঠে আসে ঠিকই, তবে সময় লাগে অনেক। লোকসান হয় না, আবার লাভও হয় না। যেহেতু আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে, আমি এটি প্রত্যক্ষ করেছি। তবে আমার কাছে আয় বা সম্মানী বলতে যে জিনিসটা বোঝায় তা হচ্ছে, শ্রোতাদের ভালোবাসা। এটাই চাওয়ার চেয়ে বেশি পাচ্ছি।’
একই মত প্রকাশ করেন এ সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। তিনিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, ‘গান ভেতর থেকে এলেই করি। যার ফলে গান গেয়ে অর্থ উপার্জন করব এটা ভাবি না। তবে খরচ তো হয়ই। এ খরচ উঠে আসার বিষয়েও ভাবি না। বর্তমানে গান প্রচার মাধ্যম যেহেতু অনলাইন, এখানেই গান প্রকাশ করছি।’
অনলাইনভিত্তিক গান প্রকাশের ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বাংলা গানের যুবরাজখ্যাত আসিফ আকবর।
তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ করলে সম্মানীর জন্য বসে থাকতে হয় না। ইউটিউবে ভালো গান দিলে অবশ্যই এ থেকে আয় আশা করা যায়। আমার কনসার্ট কম হয়। গান করেই আমার চলতে হয়- এটা আমার আয়ের প্রধান উৎস। সে জন্য আমি গান করতে গেলে সম্মানীর কথা চিন্তা করি। আমার নিজস্ব চ্যানেল থেকেও আয় আসে, তবে তা গোপন রাখাই ভালো। এটা মনে রাখা উচিত ব্যক্তি কিংবা কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লেনদেনে এদিক সেদিক করতে পারে। কিন্তু ইউটিউবসহ অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমগুলো লেনদেনের ক্ষেত্রে সৎ ও সঠিক এবং ইউটিউব ও অনলাইনের অন্যান্য মাধ্যম থেকে আমি ইনকাম করি তাতেই আমি সন্তুষ্ট। একটা কথা সবার মনে রাখা দরকার, ভালো কাজ করলে সম্মানীর জন্য ভাবতে হবে না।’
ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে গান প্রকাশ করেন আরেক জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। এখান থেকে কেমন আয় হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আয়ের উৎস ইউটিউব হলেও আমার যে চ্যানেল আছে সেটি অর্থ উপার্জনের পর্যায়ে এখনও যায়নি। কারণ ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ করার সময়-সুযোগ হয়নি ব্যস্ততার জন্য। যার ফলে সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গান করি আমি এবং তাদের কাছ থেকে এককালীন টাকা নিয়েই কাজ করি। ইউটিউব থেকে আয় করতে হলেও অনেক পরিশ্রম করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। আমি শিগগিরই আমার ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ শুরু করব এবং নতুন পুরাতন সব গান প্রকাশ করার চেষ্টা করব।’
ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের বিষয়ে একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে, তাই অভিজ্ঞতার আলোকেই বলি। একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করতে যে খরচ হয় তার কয়েক ভাগের এক ভাগও ওঠে না। এ যুগে আমাদের অর্থ উপার্জনের এক মাত্র উৎস হচ্ছে লাইভ কনসার্ট। এ জন্যই নতুন গান আনুপাতিক হারে কম করি। এখন থেকে বেশিরভাগ গান করব আমার নিজের চ্যানেলের জন্য। কেননা একটি চ্যানেলে অনেক কন্টেন্ট থাকলে এক সময় ভালো মানের রেভিনিউ আসে এটা আমি জানি’
একই কথা শোনালেন সঙ্গীতশিল্পী কাজী শুভও। তিনি বলেন, ‘আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে। তবে সেটা থেকে খুব একটা আয় হয় না। তবে এটা আমি জানি, একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণে যে খরচ হয় একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে তা উঠে আসতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমি যেটা করি তা হচ্ছে সঙ্গীত প্রযোজনা সংস্থা থেকে এককালীন সম্মানী নিয়ে গান করি। এতে করে নিজের খরচ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হয় না।’
তবে কণ্ঠশিল্পী কণা বলেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশের কোনো নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার চ্যানেলের সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবার। ইউটিউব থেকে আয় কেমন আসে বা আসে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার চ্যানেল থেকে আয় করে আসছি।
তবে তা সব সময় যেমন একরকম নয়। খুব তাড়াতাড়িও পাই না। একটি গান প্রকাশের আগ পর্যন্ত যে খরচ করি তা একবারেই উঠে আসে না। অনেক সময় পর ভাগে ভাগে উঠে আসে। তবে তাতে তো আর চলা যায় না। আমি অন্যান্য সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেও গান করি এবং তা এককালীন সম্মানী নিয়ে।’

কোন মন্তব্য নেই